দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশজুড়ে একযোগে শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ভিজিল্যান্স টিম মাঠে কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে পটুয়াখালী জেলায় ৮টি উপজেলার ৫৫টি কেন্দ্রে মোট ১৫ হাজার ৮৮৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা-আইসিটি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৮টি কেন্দ্রে এইচএসসিতে ১০ হাজার ৭৩৯ জন, ১৩টি কেন্দ্রে আলিমে ১ হাজার ৭০৪ জন এবং ১৪টি কেন্দ্রে এইচএসসি (বিএম-ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ৩ হাজার ৪৪৫ জন অংশ নিচ্ছেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরীক্ষা নকলমুক্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কেন্দ্র সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সভা করা হয়েছে। জেলার আটটি উপজেলাকে পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করে পাঁচটি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টিমের নেতৃত্বে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকেরা রয়েছেন।
পরীক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ প্রস্তুতির পর পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে শুরুতে কিছুটা চাপ অনুভব করলেও কেন্দ্রের সুশৃঙ্খল পরিবেশে তারা আত্মবিশ্বাসী। তবে প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় সংবাদকর্মীদের ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বরিশালেও সকাল ১০টা থেকে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার ৬০ হাজার ৪৩৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ছাত্র ২৮ হাজার ৩০ জন এবং ছাত্রী ৩২ হাজার ৪০৬ জন। প্রথমবারের মতো দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইউনুস আলী সিদ্দীকি জানান, প্রতিটি পরীক্ষাকক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং পরীক্ষা তদারকিতে ২১টি ভিজিল্যান্স টিম কাজ করছে। এ বছর বোর্ডের অধীনে ১৪২টি কেন্দ্রে ৩৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। পরীক্ষার্থীরা জানান, ভালো প্রস্তুতি থাকলে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনেও ১১২টি কেন্দ্রে ৩১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭৩ হাজার ৩৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্র ৩৪ হাজার ৩১৪ জন এবং ছাত্রী ৩৮ হাজার ৭২৩ জন। বিজ্ঞান বিভাগে ১৫ হাজার ৮৩৮ জন, মানবিক বিভাগে ৫১ হাজার ৬৬৩ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫ হাজার ৫৩৬ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন।
ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম আরিফুর রহমান বলেন, ‘এবার এইচএসসি পরীক্ষায় নকলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ঠেকাতে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।’
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৯৩টি কেন্দ্রে মোট ৯৪ হাজার ৮০২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ছাত্রী ৫৭ হাজার ১৯৬ জন এবং ছাত্র ৩৭ হাজার ৬০৬ জন। প্রথম দিনে কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক ছিল বলে বোর্ড সূত্র জানিয়েছে।
তবে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি পাসের পর বিভিন্ন কারণে ২৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। শিক্ষা বোর্ডের মতে, দারিদ্র্য, অল্প বয়সে বিয়ে, কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ এ ঝরে পড়ার সম্ভাব্য কারণ। বোর্ড কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করে পরীক্ষার সব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।
এমএম/